সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়




মহারোদ দুয়ারে দুয়ারে

নিত্য বিনিময় হচ্ছে, নিত্য নাম যার হাটে – ঘাটে- মাঠে
মানে প্রতিদিন তুমি বেচে দাও তোমার সাহস
নিজের জোগাড় সব ____ অন্ন দে গো অন্নদা -  বলেই
সাঁতার দিয়েছ স্রোতে মহারোদে লালন পালন
গড়েছে নিজের মতো প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে চোখ
এত লোক চারিদিকে _____  সবই শূন্য দিকবিদিক খাঁ খাঁ
ভুবন পাড়ের গ্রামে একী হলও ,   নিত্যদা তোমার !
ভিক্ষা তো অন্নের নয় ভিক্ষা যে আয়ুর ---
কে যে  কাকে রক্ষা করবে  ,  ও ভাই নিত্যদা ___
                                   বেঁচে থাকা বহুকাল বিশ্বজোড়া সুর !
     




জাল

কুড়িয়ে পেয়েছি রাত্রি সহস্র মাছির মতো উড়ে
আমাদের  পৃথিবীতে শুধু ওই ছেলে আর মেয়ে
কত কত ঘুমাবার ঘরে তৈরি অনলাইন ক্লাসে
কত  ধ্বংস , বিপর্যয় বস্তু থেকে জন্ম নেওয়া মনে
অনেক সন্দেহ আর ঝোড়ো হাওয়া ভাইরাল জীবনে
#
কেমন উন্নত বলো ! মানত করেছি দিন রাত
এক করেই বসে আছি কিছুই করার নেই আর ?
যাদের কিছুই নেই _____ আর যারা বেচেছে সাহস
তাদের সমস্ত নিয়ে খালা চলে তোমার আমার
কত লোক শুধু হাটে বসে বেচে গেলো নিজেকেই
এই আকাশেই ঠিক তারার উৎসাহ রাখা যাক
খিদের বিদ্যায় আজ চারিদিক কুড়িয়ে কাঙাল
আমরা তো জড়িয়েছি , জড়িয়েছি নিজেদের তৈরি করা জাল
    




লকডাউন


বাইরের গ্রামের কোনও লোকজন প্রবেশ নিষেদ
রাস্তায় টাঙানো বোর্ড বাঁশ- খুঁটি নির্জন সন্ধ্যায়
করোনা ভাইরাস ওই এলো বুঝি, এলোমেলো তাই
শান্ত চুপচাপ সব বাঁশ ঝাড় চারপাশ একাই
কেমন নীরব মোম গলে - গলে পড়ছে যত দূরে
মানব জীবন থেকে মানুষের ছায়া একই সুরে
দূরের বাড়িতে বন্দি, হাত ধোয়া ঠিকঠাক মনে
শূন্যের জটলা যত কাটাকুটি সারাদিন সেই
যেমন চলেছে একা ফাঁকা -  ফাঁকা  রাস্তাটিও পড়ে
কেমন অভাবী হাওয়া বয়ে চলে শেষ রাজকীয়
গাছেরা ভালই তো আছে ___ পাখি সব করে রব, ওহো!
পাখা মেলা দুই হাত সংক্রমণ প্রতিরোধে জড়ো
হয়েছে পৃথিবী আজ দুএক মুঠোই মাত্র শ্বাস টুকু ধরো ---      





শূন্য


ওই তো মৃত্যুর শব্দ  _____ ওই তো শহর , গ্রামে গ্রামে
নিজেকেই আঁকড়ে ধরা শত চেষ্টা শূন্যতায় দুলে
সবাই দুর্যোগে ছোটে ভাল থাকতে চিহ্নিত সময়
সময় রোগের দায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে চারিদিকে
কেমন কাঙাল প্রাণ কী খাবে !  জোগাড় করা খই
সকাল বিকাল শুধু গান চাই কেবলই হইচই
বজ্রের কঠিনে  আলো ---- জোড়াল বক্তৃতা শেষ কবে
দিয়েছে পথের বাঁকে সভা আজ মুলতুবী  সাজে
বনে আজ সুস্থ পাখি ডাকছে কাকে একার রৌদ্রেই
কারা বেড়িয়েছে বহুদূর পথে সেই যে শ্রমিক
এ শহর ও শহর চিনে চলে গেছে কত দিক
তাদের মুখের কাছে শূন্য ছুঁয়ে জীবন কঠিন
সাইকেল চালিয়ে পথ কখন মুর্শিদাবাদ হয়
নিজের চালাই বসে ভাঙা গানে মজেছে ফকির
তোমার জন্যেই আজ চারিদিকে গাছ ঝিরঝির
    




ঝড়

এটা পাচ্ছি,  ওটা পাচ্ছি না  এভাবে বাজার                    
প্রশ্ন করে ___  আঙুল তোলে___  প্রশ্ন করে               

করে যাচ্ছি গ্রামে বসেই বেচারি হাজার
আমরা পাচ্ছি, পাচ্ছি না কিছু নিজের মুখে
মিথ্যা বলতে রোদ পুড়ে যায় সবার চোখে
দিবস রজনী ডুবে ডুবে ওই শুনতে পাই
বনের হরিণ ঘরে আসছে ___ ওই তো পাহাড়
 সবাই যেন দেখতে পাচ্ছে বাকিংহাম
ডাক দিচ্ছে ঝকঝকে ওই ফর্সা রানি
ঝড়ো হাওয়ায় রুটি রুজির প্রচুর দাম



প্রশ্ন করে ___  আঙুল তোলে ____  প্রশ্ন করে
হাজার পাখি এক হয়েছে জীবন ঝড়ে ---


No comments

Powered by Blogger.