অরিন্দম রায়




বসন্ত

বসন্ত এসে গেছে
এসে গেছে হোলি
কারা যেন বলে গেল:
মারো সালো কো গোলি

এসেছে বসন্ত ঋতু
খেলা হবে দোল
রঙ বা আবীর নয়
কার্তুজের খোল
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে
জনহীন গলি
কারা যেন বলে গেল:
মারো সালো কো গোলি

বসন্তকুঞ্জে তৈরি
শ্রীমধুসূদন
রাঙিয়ে দেবেন তিনি
রাধিকার মন

পিহু ও পাপিয়া ডাকে
মিঠে লাগে বোলি
কারা তবু বলে গেল:
মারো সালো কো গোলি





কুরুক্ষেত্র

চুমুর বদলা চুমু
মাঝখানে সমঝোতা নেই
ঠোঁটের ভিতরে ঠোঁট
শান্তিচুক্তি রদ হয়ে গেছে
শরীরে শরীর
মিসাইল,লঞ্চপ্যাড রেডি
পরিত্যক্ত মাইনফিল্ড
দুজনেই পার হয়ে যাবে?





হারামি

হারামির (কখনো) ব্যথা লাগে না
হারামির দুঃখবোধ নেই
হারামি ইন্সট্যান্ট দুধের মতো
কফির ভিতরে মিশে যায়
হারামি একটা ফেনোমেনন
হারামিপনা ট্রেড সিক্রেট
একজন হারামি জানে কিভাবে কার্টসি বজায় রেখে
একজনকে চুমু আর অন্যজনকে বিষ দিতে হয়
হারামি বিজনেস আর ফ্যামিলিকে মেশায় না কক্ষনও
হারামি আকাশে মেঘ,নদীপাড়ে কাশ হয়ে ফোটে
একইসঙ্গে চিরন্তন ,কনটেম্পোরারি
হারামিদের জিনঘটিত অসুখ করে না









রহস্যগল্পের খসড়া

টিকিয়াপাড়ার দিকে চলে গেছে মেঘ!
চলে গেছে মাঝরাতে
বাড়িতে কাউকে সে কিছুটি না বলে

শান্ত যুবক মেঘ নেশাভাঙ করেনি কখনও
রেগে গিয়ে কারও গায়ে তোলেনি তো হাত
প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার মতো যোগ্যতা ছিল না

টিকিয়াপাড়ার দিকে চলে গেছে মেঘ
থমথমে পরিবেশে
আমাদের আশংকায় রেখে










কবি
মায়া ও প্রপঞ্চময় এই বাগধারা তোমাকে ফুঁসলে নিয়ে তারপরে নরকে পাঠাবে।দীর্ঘ অনিদ্রা রোগে বসে যাবে চোখ,কোটরে খিদের মতো জ্বলে থাকবে রুষ্ট সেই দেবীর দেওয়া শাপ ।পাখপাখালির ঝাঁকে তুমি শুধু দেখতে পাবে কিভাবে নিশ্চিত তাদের বাসা ভেঙে যায় ।
তোমার দুই চোখ তখনও স্থির ও অবিচল । নতমস্তকে তুমি ফিরে আসবে ঘরে।
অবসন্ন,জোড় হাতে প্রণাম জানিয়ে,তোমার পাথর চোখ তুলে দেবে বাস্তবের প্রহরীর হাতে।


















যদি পারো
ওকে তুমি কাম দাও,ক্রোধ দাও তুমি
মিনমিনে স্বর ছেড়ে শেখাও বাঘের মতো সবল পায়চারি   
ঘাড় মটকে রক্ত খাক বাংলা কবিতা
বুক চাপড়ে গোরিলার মতো  স্বতঃস্ফূর্ত সেলিব্রেশন শিখুক

No comments

Powered by Blogger.