মুন্সিয়ারি-খালিয়া টপ ভ্রমণ , হুড খোলা পাহাড়ের দেশে

শ্রাবণী খাঁ

মুন্সিয়ারি-খালিয়া টপ ভ্রমণ , হুড খোলা পাহাড়ের দেশে         

যাবার আগের দিন অবধি বুঝতে পারছিলাম না যাওয়াটা আদৌ হবে কী না! টেলিভিশনে চাকরি করা ইস্তক কাউকে দেওয়া কথা রাখতে পারিনি। পাহাড়-কে দেওয়া কথাও কি রাখা হবে? টিকিট গুলো খুলে খুলে দেখি আর বিবর্ণ মুখে বসে থাকি। তারপর হঠাৎ নতুন একটা শুটিং ক্যন্সেল হয়ে গেল দুম করে আর আমার ছুটিটা স্যাংশন হয়ে গেল। লাফিয়ে উঠে বর্ণিনী-দির (কলিগ কম, বন্ধু্ বেশি) হাতে তালি দিয়ে গাইতে শুরু করলাম... কখনো সময় আসে, জীবন মুচকি হাসে, ঠিক যেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা...
তারপর এল ব্যাগপত্তর গুছিয়ে ফ্লাইটে উঠে পড়ার দিন। কলকাতা থেকে দিল্লীর ফ্লাইট। নভেম্বর মাস। বেশ কনকনে ঠান্ডা। দিল্লী পৌঁছে উবার পেতে কালঘাম ছুটে গেল। রাতটা দিল্লীর একটা হোটেলে কাটিয়ে ভোর ভোর নিউ দিল্লী স্টেশনে চলে এলাম। ট্রেনে দুলুনিতেও ঘুম এলো না। অতিরিক্ত ক্লান্তি, নাকি  উত্তেজনা  জানি না। অবশেষে শতাব্দী এক্সপ্রেস ঢুকলো সবুজ পাহাড় ঘেরা মিষ্টি স্টেশন কাঠগোদামে। নেমেই মনটা ভালো হয়ে গেল। আমাদের ড্রাইভার অপেক্ষা করছিল স্টেশনেই। গাড়িতে লাগেজ-টাগেজ তুলে দিয়ে শুরু হয়ে গেল পাহাড়ি পথে হুহু করে এগিয়ে চলা।  ড্রাইভার বলল... ‘কল বারিশ হুয়া হ্যা, ঠন্ড বড়েগা, কিসমত আচ্ছা​ হো তো স্নো ফল মিল যায়েগা আপ লোগো কো।’



ছবিঃ কাঠগোদাম স্টেশন

আমরা যাবো উত্তরাখন্ডের বুকে ছোট্ট স্বর্গ মুন্সিয়ারিতে। বরফের রাজ্য। উচ্চতা ৭২০০ ফুট। গত একমাস ধরে শুধুই ইন্টারনেট ঘেঁটে মুন্সিয়ারির ছবি দেখেছি। কিন্তু মুন্সিয়ারি বহু বহু দূর। আমাদের রাতটা কাটাতে হবে আলমোড়ায়। গাড়ি ছুটছে। খানিক দূর যেতে না যেতেই রাস্তা মোহময়ী হয়ে উঠলো। দুপাশে পাইনের জঙ্গল, আকাশের দিকে মুখ তুলে দেওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষী গাছ আর বুনো গন্ধ। মাঝে একটা জায়গায় নেমে একটু খাওয়াদাওয়া। তারপর আবার ছুট।      

              
ছবিঃ আলমোড়া যাবার পথে দুপুরের খাওয়া দাওয়া

আলমোড়া পৌঁছোতে পৌঁছোতে বিকেল হয়ে গেল। আলমোড়া টি আর এইচ। অসম্ভব সুন্দর কাঠের ছিমছাম, পরিপাটি ঘর। বিশাল বড় বড় দুটো জানলা। জানলার সামনে সোফা। চারপাশে গাঢ় প্রশান্তি! সন্ধে নামছে। হিমালয় ছুঁয়ে আসা আলো ওক-পাইনের জঙ্গল পেরিয়ে অকৃপণ এসে পড়ছে সমস্ত ঘরে। নানা রকম পাখি ডাকছে, ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকছে, আর আমার মনে হচ্ছে...এই আলো, এই অলৌকিক আলোয় আমার সমস্ত অসুখ সেরে যাবে। ​Heal me, Heal me with thy light.
ছবিঃ আলমোড়া টি আর এইচ

সন্ধেবেলা আলমোড়া বাজারটা ঘুরতে গেলাম। গুগল ম্যাপ দেখে দেখে আলমোড়ায় বিখ্যাত মিষ্টির দোকানে পৌঁছে কিনলাম বাল মিঠাই। গাঢ় খয়েরি মিষ্টির ওপরে অসংখ্য সাদা সাদা দানা। মজার দেখতে। খেতেও দারুণ। তারপর হোটেলে ফিরে খাওয়া দাওয়া সেরে লম্বা ঘুম। পরেরদিন সকালে অনেকটা জার্নি। মুন্সিয়ারি পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধে হয়ে যাবে।
 ছবিঃ উত্তরাখন্ডের প্রসিদ্ধ মিষ্টি

আলমোড়া জায়গাটাও ভারি সুন্দর। সকালবেলা উঠে ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়লাম। আবার সেই বুনো গন্ধ, উঁচু উঁচু​ গাছ, পাকদন্ডী রাস্তা। পাশে নাচতে নাচতে ছুটছে ছটফটে একটা নদী। ড্রাইভার বললো...নামবেন নাকি? নামলাম। একটা কাঠের সাঁকো পেরিয়ে নদীর পাশে পৌঁছোলাম। সবুজ ঠান্ডা জল কুলকুল করে বয়ে যাচ্ছে। সেই তিরিতিরে ধ্বনি আর ঠান্ডা হাওয়ায় কেমন একটা ঘুম পেয়ে গেল। চারপাশে ঝকঝকে নুড়ি-পাথর। পাথরে মাথা রেখে অচেনা নদীটার পাশে ঘুমিয়ে পড়লাম।

 প্রায় আধঘন্টা পর ডেকে তুললো আমার সঙ্গী। ক্লান্তি জড়ানো পায়ে গাড়ি পর্যন্ত হেঁটে এসে আবার শুরু করলাম চলা। এবার রাস্তা আরো দুর্গম। পাশে ঝমঝম করে চলেছে নদীটা। রামগঙ্গা। হঠাৎ গাড়িটা এমন একটা পথে ঢুকলো যার দুপাশে অনেক বাড়ি। আর সেই অসংখ্য ছোট ছোট বাড়ির পেছনে মাথা তুলে পিতামহের মতো দাঁড়িয়ে আছে শুভ্রশিখর হিমালয়। আমরা থ। এত সহজ! বরফ পাহাড় দেখতে পাওয়া এত সহজ!

আসলে এমনই উত্তরাখন্ড। সারা পথ জুড়েই পাশে পাশে হাঁটে হুড খোলা হিমালয়। জায়গাটার নাম ছিল বেরিনাগ। ইচ্ছে ছিল বেরিনাগে আরেকটু দাঁড়িয়ে চোখ সার্থক করি। কিন্তু হল না। বেলা বাড়ছে। ড্রাইভারের তাড়ায় গাড়িতে উঠলাম। দুর্গমতর পথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। এবারে খাওয়ার জন্যে নামা হল একটা ছোট্ট হোটেলে। আমার খিদে পায়নি। আমার সঙ্গীরা নদী থেকে ধরে আনা টা্টকা মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেলো। হোটেলের বাইরে সিমেন্ট দিয়ে বাঁধা বেদী মত করা। সেখানে তুলতুলে নরম রোমশ একটা কুকুর ছানা নিয়ে বসে আছে এক মহিলা। আমি তুলোর বলটাকে আদর করে আবার গাড়িতে উঠে বসলাম। মুন্সিয়ারি পৌঁছতে আর বেশি দেরি নেই।  

  ছবিঃ আলমোড়া থেকে

রোদ পড়ে আসছে। একটা হুহু ঠান্ডা হাওয়া ঝাপটা মারছে চোখে মুখে। পথ এবার আরো খাড়া। আরো নিঝুম। খানিকটা গিয়ে গাড়ি দাঁড় করালো ড্রাইভার। কালামুনি টপ। মুন্সিয়ারি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে, উচ্চতা ৯৫০০ ফুট। নেমে যা দেখলাম তাকে ভাষা দেওয়া যায় না। থমথমে গাছেদের পাশে আলতো একটা বাড়ি, আর তার পেছনে সন্ধের নরম, মায়াবী আলো মেখে দাঁড়িয়ে আছে বিরাট পঞ্চচুল্লী। ওই সম্ভ্রান্ত নির্জনতায়, অপরূপ আলোয়, বরফ শৃঙ্গের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমার কথা আটকে গেল। হাতজোড় হয়ে এল আপনা থেকেই মোহগ্রস্তের মতো গাড়িতে উঠে এলাম।


 ছবিঃ কালামুনি টপ

আধঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম মুন্সিয়ারি। থাকছি মিলাম ইন-এ। হোটেলের বাইরেটা দেখেই চোখ জুড়িয়ে গেল। রিসেপশন থেকে চাবি নিয়ে সোজা রুমে। ঘরে ঢুকে আবারও চমক। বিশাল বড় কাচের জানলা জুড়ে নরম আলোয় জেগে আছে সেই পঞ্চচুল্লী, খানিক আগে পথ আটকে ছিল যে। 

ছবিঃ মিলাম ইন-এর রুম থেকে পঞ্চচুল্লী

পরদিন সকালে কাচে প্রথম আলো পড়তেই ঘুম ভাঙলো বিনা অ্যালার্মে। কাঁপতে কাঁপতে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম। ভোরের চিকন আলোয় অল্প অল্প করে খোলস ছাড়ছে পঞ্চচুল্লী, নীচে মুন্সিয়ারি শহরটাকে স্বপ্নের মতো দেখাচ্ছে। বরফচূড়া রঙ বদলাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। এই লাল, এই হলুদ, এই ঘন নীল। আমি চোখে মেখে নিচ্ছি রঙ। চারপাশে যেন মহা উৎসব। প্রকৃতির আয়োজনে কোথাও কোনও ফাঁকফোকর নেই।

ছবিঃ পঞ্চচুল্লী, মুন্সিয়ারি মিলাম ইন থেকে

আরেকটু আলো ফুটতে চা পেয়ে গেলাম ঘরেই৷ তারপর রেডি হয়ে
, আলুর পরোটা খেয়ে বেরিয়ে গেলাম খালিয়া টপের দিকে। ট্রেক করবো। সবাই বলেছে সোজা ট্রেক। ৮ কিলোমিটারের রাস্তা। ৪ কিলোমিটার হাঁটা, ৪ কিলোমিটার নামা। এদিকে ট্রেকিং পোল নেই। অদম্য উৎসাহে প্রচন্ড খাড়া পাহাড়ে ওঠা শুরু করলাম। দু পা হাঁটি, ৪ মিনিট দাঁড়াই। বেচারা গাইডের অবস্থা দেখে আমারই খারাপ লাগতে শুরু করলো। সে লম্বা লম্বা পা ফেলে খানিকটা এগোয়, তারপর আমার জন্যে অপেক্ষা করে। চারপাশে লম্বা লম্বা হলুদ ঘাস আর ঘন নীল আকাশ৷ পাশে ঝকঝকে হিমালয়। কিন্তু হাঁটতে যেন আর পারি না। রীতিমতো শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ইতিমধ্যেই  
 ছবিঃ খালিয়া যাবার পথে

খালিয়া টপের উচ্চতা ১১,৫০০ ফুট প্রায়। তিনঘন্টা হাঁটার পরে এসে পৌঁছোলাম অ্যালপাইন রিসর্ট
অপূর্ব সুন্দর রিসর্ট। এইখান থেকে পঞ্চচুল্লির অসামান্য ভিউ পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা এত ধীরে হেঁটে এত দেরিতে পৌঁছেছি যে ইতিমধ্যে মেঘে ঢেকে গেছে বরফ পাহাড়। চারপাশে শুধু মেঘের সমুদ্র।

ছবিঃ অ্যালপাইন রিসর্ট

খালিয়া টপ এখনো বহুদূর। তাড়াতাড়ি কফি আর ম্যাগি খেয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। ঠিক হল ফেরার পথে এখানেই খাবার খেয়ে নেবো। এবার রাস্তা আরো খাড়া। দু-পা যাই আর গাইডকে জিজ্ঞেস করি... “অউর কিতনা দূর ভইয়া” গাইড বারবারই এক উত্তর দেয়... “বস আ হি গয়ে ম্যাডাম, অউর থোড়া।“ চারপাশে ঘন ঘাসের জঙ্গল। পাথুরে খাড়া পথ। অজানা সব ফুল। আমরা হাঁটছি। গাইড গল্প বলে চলেছে...এই খাড়াই পথে সাইক্লিং হয়, ওই গাছের বাকলে, পাতায় আগে চিঠি লেখা হত... এইসব শুনতে শুনতে হঠাৎ দেখি পাহাড়ের আবহাওয়া পাল্টে যাচ্ছে। তাপমাত্রা হঠাৎ কমে সারা পাহাড় জুড়ে ধোঁয়ার মতো কী যেন উঠছে। আর সমস্ত প্রকৃতির নাভীমূল থেকে যেন উত্থিত হচ্ছে একটাই শব্দ। ঔঁ... ঔঁ... ঔঁ।

ছবিঃ খালিয়া টপ যাবার পথে আলো-ছায়ার খেলা

অবশেষে পৌঁছোলাম খালিয়া টপ। চোখ জুড়ানো বুগিয়ালের মাঝে মস্ত এক কালো পাথর। যেদিকে চোখ যায় তুলো তুলো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। চারপাশে আলোও কমে এসেছে বেশ খানিকটা।  আর দূরের পাহাড় গুলোর গায়ে কোন কোন জায়গায় চুঁয়ে আসা আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে সরু পাকদণ্ডী পথ। আলোয়-ছায়ায় অপূর্ব এক দৃশ্য
ছবিঃ খালিয়া টপ

বেশ কিছু ছবি তোলার পর এবার আবার নীচে নামার পালা। পা গুলোতে আর কিচ্ছু নেই। ব্যাথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। ব্যালান্স থাকছে না।  অ্যালপাইনে পৌঁছে রুটি, তরকারি আর ডিমভাজা খেলাম।  পাহাড়ের অত উঁচুতে বলে প্রচন্ড দাম। তারপর সবাই মিলে একটু আগুন পোহালাম, ঠান্ডা খুব বেড়েছে।
নামার শুরু হতেই টের পেলাম... আমি আর পারছি না। এখনও বহু পথ বাকি। এমনিতেই স্বাভাবিকের থেকে কম গতিতে হাঁটছি। গাইড কী বুঝলো... আমাকে দাঁড় করিয়ে গাছের পড়ে থাকা ডাল ভেঙে একটা ট্রেকিং পোল মতো বানিয়ে দিল। একহাতে সেই লাঠি আর অন্য হাতটা গাইডের হাতে...এইভাবে চলেছি। হঠাৎ দেখি গাছপালার ফাঁক দিয়ে আবার প্রতিভাত হয়ে উঠেছে পঞ্চচুল্লী, সূর্যাস্তের আলো তার মাথায় পড়ে মনে হচ্ছে আগুন ধরে গেছে। আমার শরীরে যেন আর বিন্দু মাত্র শক্তি নেই। কষ্টে চোখে জল এসে যাচ্ছে। তবু ওই সোনাঝরা হিমালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হল... সার্থক...সব সার্থক।


ছবিঃ খালিয়া টপ থেকে নেমে আসার পথে সোনাঝরা হিমালয়

আবার হাঁটা শুরু করলাম। এবার আলো একেবারে কমে এসেছে। শুধু চোখ কম আলোয় অভ্যস্ত হয়ে গেছে বলে পথ বুঝতে পারছি। হঠাৎ খেয়াল করলাম টর্চ আনিনি। গাইডকে ফোনটা দিলাম। ফোনের টর্চের আলোয় পথ চলা শুরু হল। কিন্তু হিমালয় যেন আজ পরীক্ষা নিচ্ছে আমাদের। মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে গেল। ঘন অন্ধকার জঙ্গল। বন্য জন্তু বেরিয়ে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এদিকে আমার হাত ছড়ে যাচ্ছে গাছের ডাল ভেঙে বানানো লাঠিতে, অন্য হাতে গাইডের হাত ধরে নামছি খুব সন্তর্পণে। চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল পড়ছে। পা সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেছে। আমি শুধু একটাই কথা জিজ্ঞেস করে যাচ্ছি। “ভাইয়া... অউর কিতনা দূর?” বেচারা গাইডও সেই একই উত্তর দিয়ে যাচ্ছে... “বস ম্যাডাম, আ হি গয়ে” এভাবে আরো অনেকক্ষণ হাঁটার পর কতগুলো টর্চের আলো দেখা গেল। এত দেরি হচ্ছে দেখে খালিয়া দ্বারের গার্ড আর আমাদের ড্রাইভার মিলে আমাদের খুঁজতে উঠে এসেছে খানিকটা ওপরে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম এবার। বাকি রাস্তাটা সেই আলোয় হেঁটে, গাড়িতে উঠে কীভাবে যে হোটেলে পৌঁছেছিলাম...এখন আর মনে পড়েনা। জীবনের প্রথম ট্রেক শেষ হয়েছিল এভাবেই। গাইড ছেলেটিকে ধন্যবাদ দেবার ভাষা ছিল না। 


ছবিঃ আমাদের খালিয়া টপ ট্রেকের গাইড

পরের দিন পায়ে প্রচন্ড ব্যথা নিয়েও ঘুরে বেড়িয়েছিলাম নন্দাদেবী মন্দির, ট্রাইবাল মিউজিয়াম, দারকোট গ্রামতারপর চলে গিয়েছিলাম চৌখরি, বিনসর, কসার দেবীর মন্দির…এইসব জায়গায়। নিখুঁত ছবির মতো সুন্দর সে সবকিছুই। সেসবের কথা আবার কখনও লিখবো সময় করে আজ এটুকুই থাক।  তবে যা লিখলাম আর যা দেখে এসেছি তার মধ্যে হয়তো অনেকখানি ফারাক হয়ে গেল। কেননা…হিমালয়কে দুচোখ ভরে দেখার সেইসব মুহূর্তরা ছিল সদ্য জন্মানো একেকটা নক্ষত্র ভ্রমণকাহিনী আসলে সেইসব মৃত নক্ষত্রের আলো বৈ আর কিছু নয়।


 প্রয়োজনীয় তথ্যঃ পাহাড়ে গেলে ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তবে ওষুধ খাবেন বুঝে। মোশন সিকনেস আর অলটিটিউড সিকনেস এক নয়। যেখানে সাধারণ এভোমিন বা স্টেমেটিলে কাজ হয়, সেখানে অযথা ভয় পেয়ে ডায়ামক্স খেয়ে ফেললে বিপত্তি বাড়বে। অন্যের কথা শুনে সোজা ট্রেক ভেবে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না। খালিয়া টপের মতো ছোট ট্রেক হলেও নয়। সঙ্গে ট্রেকিং পোল ও পাথুরে খাড়াই পথে হাঁটার উপযুক্ত জুতো অবশ্যই থাকা চাই। যারা বিগিনার, নিয়মিত এক্সেরসাইজ ও হাঁটাহাঁটির মধ্যে বিশেষ নেই, তারা খালিয়া টপ ট্রেক করতে চাইলে অবশ্যই রাতটা কাটাবেন অ্যালপাইন রিসর্টে। নইলে পায়ের ব্যথা আর ক্লান্তিতে বাকি ট্রিপটা মাটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে ফেলে দেওয়া যায় না। ট্রেক করা কালীন চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল পাহাড়ের যেখানে সেখানে ফেলবেন না। ভালো থাকুন। পাহাড়কেও ভালো রাখুন।








No comments

Powered by Blogger.