নদীর পাড়ে চড়ুইভাতি

ছবিঃ অমিতাভ ঘোষ


গৈরিক গঙ্গোপাধ্যায়
নদীর পাড়ে চড়ুইভাতি

আমাদের বাড়ি থেকে একটু হাঁটলেই বাঘমুন্ডি রোড। পাকা রাস্তা। এঁকে বেঁকে চলে গেছে বাঘমুন্ডি পর্যন্ত। থুড়ি, চলে গেছে বাঘমুন্ডি পার করে, পার করে ছৌ-নাচের মুখোশ তৈরির গ্রাম ‘চড়িদা’কেও। ওই রাস্তা দিয়েই মাঠা এবং অযোধ্যা পাহাড়েও যেতে হয়। না, অতদূর যেতে হবে না তোমাদের। তার অনেক আগেই, এই ধরো ছয় কিলোমিটার গিয়েই তোমায় কাঁচা রাস্তায় নামতে হবেপ্রথম ছয় কিলোমিটারের মধ্যে চার কিলোমিটারই রাঙ্গাডির বন- যার ঠিক মাঝ বরাবর রাস্তাটা চলে গেছে। তারপর ডানদিকে কাঁচা পথ শুরু হচ্ছে।
সেই লাল মোরামের পথে, যাতে গরুর গাড়ি আর রিক্সার টায়ার লাগানো সাইকেলের চাকার দাগ, যেতে হবে আরও আট কিলোমিটার। পথে পড়বে পাথরবাঁধের নামো। বাঁধ মানে জানো? বাঁধ মানে পুকুর। অর্থাৎ পাথরবাঁধ মানে পাথরের পুকুর। বহুকাল আগে ওখানে একটা নীলকুঠি ছিলো। সেই নীলকরত সাহেবরা জলের প্রয়োজনে পাথরের চাটান ফাটিয়ে জল বার করেছিলো। তাই পাথর বাঁধ। আর নামো মানে ঢালু জায়গা। নীলকুঠিটার ভগ্নাবশেষ এখনও আছে সেখানে।
যাক সে কথা। ওই জায়গায় খুব উঁচু একটা জারুল গাছের মাথায় শকুনির বাসা। রাস্তাটা ওইখানে এতই ঢালু যে ওখান দিয়ে সাইকেল চালিয়ে নামা যায় না। সাইকেল থেকে নেমে হেঁটে যেতে হয় পা চেপে চেপে। পথেই ‘নেকড়ে’ গ্রাম পড়বে, পড়বে ‘গেঁড়ুয়া’। রাস্তা থেকে নেমে বাঁপাশে বনের পথ একটু মাড়ালেই পাবে একটা বাতিল হয়ে যাওয়া অভ্রখনি। অভ্র কাকে বলে তা নিশ্চয়ই এতদিনে জেনে গেছো তোমরা। ওই যে গো, যা দিয়ে ইলেকট্রিক ইস্ত্রি তৈরি হয়। আর যা গুঁড়ো করে দোলের সময় আবিরে মেশায়। যাবার পথে অবশ্যই দেখে যাবে খনিটা। পাতার ফাঁক থেকে গড়িয়ে পড়া ছিটে-ফোঁটা আলো সেখানে সোনা-রূপোর জেল্লা ছড়ায়। পায়ে পায়ে এবং বাতাসে ভাসিয়ে সেই সোনার ছোঁয়া মাঝেমাঝে রাস্তাতেও।

আমরা চিরুগোড়া যেতাম শীতের শেষাশেষি। যখন বন তার ঝিমুনি কাটিয়ে উঠে দোল খেলছে শাখায় শাখায়। রাঙ্গাডির শাল-পলাশের জঙ্গল তখন নীল আকাশের নীচে লালে লাল। আমাদের বড় দাদা দিদিরা গলা ছেড়ে গান ধরতো- “ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে
                                                      ফুলে ফলে ডালে ডালে পাতায় পাতায় রে
                                                         আড়ালে আড়ালে কোনে কোনে...”
রাস্তায় আমরা ছাড়া জন-মনিষ্যি নেই। তবু রাঙ্গাডির বন, তার শাল, সেগুন, পলাশ গাছরা যেন খুব মন দিয়ে সেই গান শুনতো। রাস্তা পার করে এপাশ থেকে ওপাশের বনে চলে যাবার সময় দু’একটা ধূসর রঙের মেঠো খরগোশও কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে পড়তো কখনো সখনো।
আমাদের আগে আগে গরুর গাড়িতে মা, ঠাকুমা আর পিসিরা থাকতেন। ঐ গরুর গাড়িতেই যেত মালপত্রও। হাঁড়ি, কড়াই, হাতা, খুন্তি- মানে চড়ুইভাতি করতে যা যা লাগে আর কি। আর হ্যাঁ! খোলা আকাশের নীচে একটা চড়ুইভাতি তো, তাই রান্নার জায়গাটা ঢাকবার জন্য একটা ছোটো ত্রিপলও নেওয়া হতো। আমরা অর্থাৎ বাবার সঙ্গে আমরা দুই ভাই, আমাদের পিসতুতো ভাই বোন ও দাদা দিদিরা আর বাবার সাঙ্গপাঙ্গরা সব হেঁটেই যেতাম। ওই গরুর গাড়ির পিছন পিছন। বাবার সাঙ্গপাঙ্গ বলতে শ্রীপতি জ্যেঠু- যিনি ঠাকুর্দার খাস লোক ছিলেন, রামদা অর্থাৎ রামচরণ মাঝি- যিনি আমাদের বাড়িতেই মানুষ হয়েছেন আর আমরা যাঁর কোলে চড়ে বড়ো হয়েছি, কাঁদরু- যে গোরুদের দেখাশোনা করতো আর বুধু ঠাকুর- রাঁধুনি।
ঠাকুর্দার বেলজিয়ান দোনলা বন্দুকটা বাবার কাঁধে থাকতো। কারণ তখনও চিরুগোড়ায় নিয়মিত চিতাবাঘ আর ভালুক বেড়োত। সে যেন পিকনিক নয়, যুদ্ধে যাওয়া।
এই দ্যাখো! বকবক করতে করতে আসল কথাটাই বলতে ভুলে গেছি তোমাদের। আমরা কোথায় যাচ্ছি সেটাই তো এখনও বলা হয়নি। যাচ্ছি একটা ছোট্ট পাহাড়ি নদী ‘চিরুগোড়া’র পাড়ে। সেখানেই চড়ুইভাতি।
ওইভাবেই গোরুর গাড়ির পিছন পিছন হেঁটে যাওয়া। তা আরো দু’কিলোমিটার হবে। রাস্তাটা কেবল নীচু হতে হতে দু’পাশের বাদাম খেতে মিশে যাবে। আর ঠিক সামনে দেখবে চারিদিকে সাদা বালির মধ্যে দিয়ে এক হাঁটু জল নিয়ে অনেক ছোটো বড়ো পাথরকে পাশ কাটিয়ে তিরতির করে বয়ে যাচ্ছে ছোট্টো একটা নদী- চিরুগোড়া। যেই চোখ তুলবে, নদীর ওপারে দূরে চোখ আটকে যাবে এক সারি পাহাড়ে। যত রাজ্যের ভো-কাট্টা মেঘগুলোকে লোটার চেষ্টা করছে তারা। অয্যোধ্যা!
 আমরা এক ছুটে নদীর চড়ায়। তারপর হুটোহুটি, ছুটছুটি আর লুটোপুটি। এরই মধ্যে বড়রা নদীর পাড়ের ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে ত্রিপল টাঙিয়ে রান্নার জায়গা করে ফেলতো। ততক্ষণে ছোটোরা দু’একজন জলেও নেমে পড়েছে।
ঘরের অ্যাকুয়ারিয়ামে তোমরা সবাই গায়ে ডোরাকাটা সরু সরু জেব্রা মাছ তো দেখেইছো। সেই মাছে নদীটা ভর্তি। কেউ কেউ গামছা দিয়ে উজান যেতে চাওয়া সেই মাছগুলো ধরছে। আর তারপরে কি করছে জানো? হাতে করে পাড়ের বালিতে গর্ত করছে আর সেখানে গামছায় ধরা সেই মাছগুলো ছাড়ছে। পাহাড়ী নদীর পাড়ের বালিতে যেখানেই একটা বাটির মতো গর্ত করবে সেখানেই জল।
ভারি মজার নদী চিরুগোড়া। আমরা যেখানটায় জলে নামতাম, তার আধ মাইল দক্ষিণেই একটা ছোট্টো  জলপ্রপাত ছিল। জলপ্রপাত বললেই যাদের ভিক্টোরিয়া বা নায়াগ্রা জলপ্রপাত মনে পড়ে, ওটা তাদের জন্য নয়। এ এক্কেবারে ছোট্টো মাপের। সেখান থেকে জলের সঙ্গে ভেসে গিয়ে নীচে পড়লেও তোমার কিচ্ছুটি হবে না। আমাদের তো সেটা খেলাই ছিল। একবার করে জলে গা ভাসিয়ে দেওয়া আর গড়গড় করে নীচে গিয়ে পড়া। আবার উঠে আসা। আর ওই প্রপাতের কিছু আগে নদীর উপরেই ছিল তিনটি প্রাকৃতিক স্নানাগার। হ্যাঁগো চানঘর! ঈশ্বরই জানেন প্রকৃতি কোন খেয়ালে তাদের বানিয়েছিলোতিনদিকে খাড়া পাথরের নীচ দিয়ে জল বয়ে যাচ্ছে। একটি চানঘরের আবার মাথাতেও পাথর ঢাকা ছিল। চাইলে লোকের চোখের আড়ালেও তুমি স্নানটা সারতে পারো।
স্নানের পরে খেতে বসার আগে বন থেকে শালপাতা জোগাড় করে ছোটোদের প্রত্যেককে নিজেদের থালা বানাতে হতো। বানাতে হতো বড়োদের জন্যও। সেসব হয়ে গেলে খেতে বসা নদীর পাড়ে- বালিতেই। ততক্ষণে ছোটোরা দারুণ কাহিল। খিদেয় প্রাণ বেড়োচ্ছে। ওই সময়ে দেখেছি বড়োরা নতুন করে কিছু করতে বললে, যে বুধু ঠাকুর বাবাকে যমের মতো ভয় পেতো, সেও বলতো আমাদের হয়ে। ‘হঁঃ হইল্য! ইবার ব্যস করো দাদাবাবু। ছ্যালাগুলাকে টুকুন খাতে দাও!’ বাবা মুখ ঘুরিয়ে হেসে ফেলতেন।
তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম। সব গোটাতে, জিনিসপত্র গোরুর গাড়িতে তুলতে তুলতে আলো কমতে শুরু করতো। ফেরার আগে নিয়ম ছিল পাড়ের গর্তগুলোয় আটকে রাখা সব জেব্রা মাছেদের নদীতে ছেড়ে দেওয়াহাতে কুড়োনো চক্‌মকি পাথরের টুকরো আর আর বড় মনখারাপ নিয়ে বাড়ির পথ ধরতাম। গোরুর গাড়িটার পিছনের দিকে নিচে একটা লণ্ঠন ঝোলানো থাকতো, কেন কে জানে! আর পদাতিক বাহিনীর হাতে থাকতো একটা পাঁচশেলের এভারেডি টর্চ। তবে বিশেষ জ্বালতে হতো না। পূর্ণিমার আশে পাশে হলে তো কথাই নেই, একমাত্র অমাবস্যা ছাড়া খোলা আকাশের নীচ দিয়ে পথ চলতে এমন কি বনের মধ্যেও টর্চের বিশেষ দরকার হয় না।
রাত্রি নামতে নামতে রাঙ্গাডির বন এসে পড়তো। আমাদের চাঙ্গা করতে বড়োরা গান ধরতেন-
‘আয় পুরুল্যা, যায় পুরুল্যা
পুরুল্যায় তোর কে আছে?
পুরুল্যারই রাস্তার ধারে খিল পান গুঁজা আছে
বল টু..উ..সু.. যাব...অ.. অ..’ 
আমরাও গলা মেলাতাম নতুন উৎসাহে। দূরে বরাভূম স্টেশানের গ্যাসবাতি আর তার ঠিক পিছনেই আমাদের বাড়ির হ্যাজাকের আলো দেখা যেতো। 







৩১৫ আপ

রেলগাড়ি কত রকমের হয় জানো? রেলগাড়ি হয় তিন রকমের। লোকাল ট্রেন, দূরপাল্লার ট্রেন আর যে ট্রেনটা তোমায় দেশের বাড়িতে নিয়ে যায়, সেই ট্রেন। আর ঐ শেষ রকমের ট্রেনটা সম্পর্কে আমাদের সকলেরই একটা আলাদা দুর্বলতা থাকে , তাই না?
আর ঠিক এই কারণেই, যে হাওড়া-আদ্রা-চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারের ভাঙ্গাচোরা, টোল খাওয়া, মরচে ধরা চেহারাটা দেখে ভালো লাগার কথা মোটেই নয়, তাকেও আমার ভীষণ ভালো লাগে—আজও। বুকের ধুকপুকুনি বেড়ে যায়—হঠাৎই। কারণ  ‘৩১৫ আপ’ আমার কাছে কেবল একটা রেলগাড়ি নয়। সে আমার ছেলেবেলার সঙ্গে আজকের পৃথিবীর যোগসূত্র (সেতু)। সে যেন একটা ‘টাইম মেশিন’। চড়ে বসলেই (আমায়) নিয়ে যাবে শৈশবের সব মধুর স্মৃতিতে।
সারা বছর শুধু তাকিয়ে থাকতাম বছর শেষের ঐ আনন্দটুকুর জন্য। অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা কেবল। তারপরেই চড়ে বসা ঘরমুখো ট্রেনে। সেখানে অপেক্ষা করে থাকতো পাহাড়ে চড়া, নদীর পাড়ে চড়ুইভাতি, বনের থেকে অজানা নানারকমের গাছের পাতা জোগাড় করে হার্বেরিয়াম বানানো, টুসু পরব, চক্‌মকি পাথর কুড়োনো, লণ্ঠনের আলোয় ভূতের গল্প শোনা ইত্যাদি হাজার মজা।
ক্রিসমাসের ছুটি প্রায় এক মাসের ছিলো। ৩১৫ আপ তখন কয়লার (স্টিম) ইঞ্জিনে চলতো। কারণ খড়্গপুর থেকে আদ্রা—এই পথটুকু তখনও ইলেকট্রিফিকেশান (ইলেকট্রিক) হয়নি। যেহেতু দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বাতিল বগীগুলো বরাদ্দ হতো হাওড়া-চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারের জন্য, তাই বাবা ট্রেনে উঠেই বার্থগুলো ঠিক আছে কিনা এবং জানলাগুলো আদৌ আছে কিনা বা থাকলেও বন্ধ হয় কিনা দেখে নিতেন। থাকলে বাবা-মায়ের শান্তি, না থাকলে আমাদের পোয়া-বারো (মজা)।
চলতে শুরু করলে কত কাজ ছিলো আমাদের—দু ভাইয়ের। প্রথমে স্টেশানগুলোর নাম লেখা এক এক করে। তারপর প্যাসেজ দিয়ে অকারণে খানিক হাঁটাহাঁটি করা। জানলা দিয়ে বাইরের অন্ধকারে তাকিয়ে দেখা চাঁদ ঠিক মতো আমাদের সঙ্গে তাল রেখে যাচ্ছে কিনা। আরো একটা কাজ ছিলো, সেই গানটা গাওয়া—
“ইলেকট্রিক ট্রেন চড়ো না
ছেড়ে দিলে উঠো না
এমন মজা পাবে না
চোখে কয়লা যাবে না......
ইলেকট্রিক ট্রেন...
দুই ভাইয়ে মিলে আপার বার্থে চেঁচামিচি করতে করতে ঠিক মধ্যরাতে যখন চোখটা লাগতো, তখনই ট্রেনটা খড়্গপুর ঢুকতো। বাবা ডিমসিদ্ধ কিনে আমাদের দেকে তুলতেন। খড়্গপুরে এক ঘণ্টারও বেশী সময় দাঁড়াতো ট্রেনটা, বাথরুমে জলভরা, ইঞ্জিনে কয়লা তোলা ইত্যাদির জন্য। পৃথিবীর দীর্ঘতম (সবচেয়ে লম্বা) প্ল্যাটফর্মে শীতের মাঝরাতে চাওয়ালারা হেঁকে যেতো ‘চায় গরম, গর্ম চায়’।
ট্রেন ছাড়লেই আমরা আবার ঘুমিয়ে পড়তাম। ঘুমের মধ্যেই পেরিয়ে যেতো মেদিনীপুর, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া। ঘুম ভাঙতো ভোরে ট্রেন আদ্রা ঢোকার মুখে (আগে)।
আদ্রায় আবার একঘণ্টা দাঁড়ানো। স্টিম ইঞ্জিল বদলে ইলেকট্রিক ইঞ্জিল লাগানোর জন্য। ঐ সময় বড়দের সঙ্গে স্টেশানে (প্ল্যাটফর্মে) নেমে দাঁত মেজে মুখ ধুয়ে গরম গরম ভাজা অমৃতি খেতাম আমরা।
আদ্রা ছাড়লে পুরুলিয়া পাঁচটা স্টেশান—গড় ধ্রুবেশ্বর, আনাড়া, কুশটাঁড়, বাগালিয়া, ছররা। ঐ সব স্টেশানের প্ল্যাটফর্ম এত নীচু ছিলো যে সিঁড়ির শেষ ধাপ থেকেও লাফিয়ে নামতে হতো স্টেশানে। জাংশন স্টেশান পুরুলিয়ায় রিজার্ভ বগী খালি হয়ে যেতো। পাশের প্ল্যাটফর্ম থেকে ঐ সকালেই ছাড়তো ন্যারো গেজের ‘কোটশীলা প্যাসেঞ্জার’। ন্যারো গেজ কাকে বলে জানো তোমরা? আমরা সবসময় (সাধারণত) যে ট্রেনে চড়ি সে ট্রেন চলে ব্রড গেজে। তার থেকে সরু লাইন হলো মিটার গেজ অর্থাৎ যে রেলপথ কেবল ১ মিটার চওড়া। আর তার চেয়েও সরু যে রেলপথ সেটাই হলো ন্যারো গেজ- যা মাত্র আড়াই ফুটের মতো চওড়া। বেশ মজা লাগতো সেই রেলগাড়ি দেখতে। এইটুকু স্টিম ইঞ্জিন সঙ্গে ছোট্ট ছোট্ট দুটো বগী আর গার্ডের কামরা। মাত্র কয়েকজন লোক নিয়ে সেই ট্রেন যখন ঝুক ঝুক করতে করতে আমাদের উল্টোমুখো যেতো ভারি সুন্দর লাগত দেখতে।
আমাদের ট্রেন পুরুলিয়া ছাড়লে খালি কম্পার্টমেণ্টে বার্থ থেকে বার্থে লাফিয়ে বেড়াতাম আমরা দু ভাই। ওই সময় বাবা আর মা শুরু করতেন বেডিং বাঁধা, ট্রাঙ্ক গুছোনো। এসব করতে করতে পেরিয়ে যেতো কাঁসাই নদীর ব্রীজ, টামনা, কাঁটাডি, উরমা স্টেশান। উরমা স্টেশান ছাড়লে ডানদিকের জানলা দিয়ে দূরে দেখা যেতো কালাপাহাড়। ক্রমশঃ সে পাহাড় বড়ো হতো। আবার তাকে পেরিয়ে ট্রেন এগিয়ে গেলে ছোটো হতে থাকতো একটু একটু করেদূরে দেখা যেতো বলরামপুর শহর। বাঘমুন্ডি রোডের লেভেল-ক্রশিং পেরিয়ে বরাভূম স্টেশানে ঢোকার আগেই আমরা দরজায়। লোকজন নিয়ে আমাদের নিতে এসে দাদু প্ল্যাটফর্ম থেকে হাত নাড়তেন।

ছবিঃ অমিতাভ ঘোষ

No comments

Powered by Blogger.